আজ | শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০
Search

দার্জিলিং থেকে সিকিমের পথে

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন : পঞ্চম পর্ব

লতিফুল হক মিয়া | ১২:৪২ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

chahida-news-1582699419.jpg

মেঘ বরফের সান্নিধ্যে ক’দিন :: চতুর্থ পর্ব এর পরের অংশ যাইহোক হোটেল কর্তৃপক্ষকে সকল অর্থ পরিশোধ করলাম। আমাদের লাগেজগুলো জিপের উপরের ক্যারিয়ারে উঠানো হলো। পলিথিন পেপার দিয়ে লাগেজগুলো মুড়িয়ে দেয়া হলো। আমরা উঠলাম গাড়িতে। শুরু হলো ১২৭ কিলোমিটার পথের সিকিম যাত্রা। এবার বৃষ্টিভেজা দিনের আলোতে দার্জিলিং শহর অতিক্রম করছে আমাদের গাড়িটি। গাড়ির গ্লাস ভেদ করে আমরা উপভোগ করছি পাহাড়ের প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য। মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে। আবার বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসছে আরেক পাহাড়ে। মনে হচ্ছে আমাদের জিপটি যেন মেঘের উপর দিয়ে উড়ছে। আবার কোথাও গাড়ি যাচ্ছে ঘন পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে। পাইন গাছের বন। লম্বা লম্বা গাছ। ডালপালা ভ‚মি থেকে অনেক উপরে।

দার্জিলিং থেকে গ্যাংটক যাবার পথে অপরূপ দৃশ্য

গাছ আর ডাল-পালা ভেদ করে আসছে আলোক রশ্মি। যে দেখতে অপরূপ-অসাধারণ। সিকিমের এই দীর্ধ পথে মাঝে একটি জায়গায় বিরতি দিল গাড়ি চালক। আমরা সেখানে প্রাকৃতিক কাজকর্ম ও হালকা নাস্তা করলাম। পাহাড়ের আঁকা-বাকা রাস্তার সঙ্গে নিজেদেরকে ফ্রেমবন্দি করলাম। কিছুক্ষণ পর আবার শুরু হলো সিকিমের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এবার সেই তিস্তা নদীকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হলো যাত্রা। তিস্তা নদীর পাড় ঘেষে রাস্তা দিয়ে চলছে আমাদের গাড়ি। পানি এতটাই স্বচ্ছ ও নীল ছিলো নদীর তলদেশে কি আছে সবই দেখা যাচ্ছিল। পড়ন্ত বিকালে তিস্তা নদীর ব্রিজের উপর সামান্য সময়ের জন্য বিরতি দিল গাড়ি চালক। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম ছবি তুলতে। বিরতি শেষে আবার শুরু হলো যাত্রা। 

দার্জিলিং থেকে গ্যাংটক যাবার পথে অপরূপ দৃশ্য

‘রংপো’ যাকে বলা হয় সিকিম প্রবেশের গেট। সেখান থেকে সিকিমে যাবার অনুমতি নিতে হয়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে আমরা পৌঁছলাম রংপোতে। প্রত্যেকের জন্য ২ কপি ছবি, ভিসা ও পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে যেতে হয় ইমিগ্রেশন অফিসে। কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করে পাসপোর্টে সিল দেয়। সাথে একটি কাগজেও অনুমতিপত্র দেয়। এটি দিয়েই সিকিমে রাত্রি যাপন ও সংরক্ষিত এলাকায় ভ্রমণ করা যায়। ভিড় থাকায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছিল সকল কাজ সম্পাদন করতে। রংপোর কাজ শেষ করে গাড়ি যাত্রা শুরু করল রাজধানী গ্যাংটকের দিকে। রাত্রি ৮টার দিকে আমাদের জিপ পৌঁছালো পূর্ব হিমালয় পর্বতশ্রেণীর শিবালিক পর্বতের ৪ হাজার ৭০০ ফুট উচ্চতার গ্যাংটক শহরের ট্যক্সি স্ট্যান্ডে। জিপ চালককে অতিরিক্ত ২৫০ রুপি দিতে হলো অপেক্ষা মাশুল বাবদ। এখান থেকে ৩টি ট্যক্সিতে করে আমরা গেলাম আমাদের প্যাকেজের নির্ধারিত হোটেল ‘হোটেল গ্যালাক্সি’তে। তাদের ফোন নম্বর : ৯৬৪৭৭২১০৯৯। এটা খুব সাধারণ মানের হোটেল হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনো কমতি ছিলো না। হোটেল কক্ষে লাগেজ রেখেই আমাদের গ্রুপের প্রত্যেকের ৩ কপি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভিসার ফটোকপি, পাসপোর্টের ফটোকপি এবং সিকিম প্রবেশের অনুমতিপত্রের ফটোকপি হোটেলের ম্যানেজারকে দিলাম। তিনি পরের দিন সকালে আমাদের উত্তর সিকিমের ইউংথান ভ্যালি ভ্রমণের অনুমতি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবেন। আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ ছিলো। তাই আমরা যেদিন গ্যাংটকে গিয়েছি আমাদের যাবার ৪-৫ দিন আগ পর্যন্ত কোনো পর্যটককেই ইয়ংথান ভ্যালি ভ্রমণের অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিলাম যে, আমাদেরকে দিয়েই শুরু করেছে ইয়ংথান ভ্যালি যাবার অনুমতি। আর এই ভাগ্য কাজ করেছে প্রথম দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়ে।

দার্জিলিং থেকে গ্যাংটক যাবার পথে তিস্তা নদীর ব্রিজে লেখক (ডানে)

যাহোক, এসকল কাজ শেষে করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম এমজি মার্গের একটি প্রসিদ্ধ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবারের জন্য। মাথাপিছু ২০০ রুপিতে সম্পন্ন হলো রাতের খাবার। দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তির দরুণ রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। 

(চলবে....)

আরও পড়ুন:  প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্ব, : চতুর্থ পর্ব, পঞ্চম পর্বষষ্ঠ পর্ব এবং শেষ পর্ব

  

আপনার মন্তব্য লিখুন