আজ | রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
Search

কাশফুল রাজ্য আমুলিয়া

মো. লতিফুল হক মিয়া | ২:১৫ অপরাহ্ন, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

chahida-news-1571473145.jpeg

কাশফুলের এক অপরূপ রাজ্য হলো আমুলিয়া মডেল টাউন। শরতের শুরু থেকে হেমন্তের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখানে গেলে কাশফুল মিলবেই। গেলে মনে হবে এ যেন কাশফুলেরই রাজ্য। আকাশে বাতাসে কাশফুল ভেসে বেড়াচ্ছে। কাশফুল চ‚র্ণগুলো আপনার মুখে-শরীরে আলতো করে ছোঁয়া দিবে। এক কথায় বলাযেতে পারে অপরূপ এক কাশফুলের রাজ্য। আমার সহধর্মীনিতো বলেই ফেলল হাতের কাছে এমন কাশফুল আগে কখনোই দেখিনি। 

আমুলিয়ার বৈশিষ্ট্য: সিন্ধু ও পর্বতমালা যাদের দেখার সময় ও সুযোগ হয়ে ওঠে না, তারা চাইলেই মনের ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুরে আসতে পারেন ঢাকা থেকে মাত্র দুই কদম দূরের পথ আমুলিয়া মডেল টাউন থেকে। আমুলিয়াতে পাহাড়, পর্বতমালা, সমুদ্র না থাকলে ও সেখানকার প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য আকৃষ্ট করবে সব দর্শনার্থীর মন। ওখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে হাইওয়ে রাস্তার দুই ধারের নদী আর অজস্র গাছপালা।

রাস্তা দিয়ে হাটলে দেখবেন ভূমিরূপ সতেজ আর চিরসবুজ। প্রকৃতি এক মায়ার জালে আবদ্ধ সেখানে। রাস্তা দিয়ে হাটলে সেখানের বিশুদ্ধ বাতাস জুড়িয়ে দেবে আপনার শরীর ও মন। আপনাকে করে তুলবে প্রফুল্ল ও প্রাণবন্ত। আমুলিয়াতে যেকোনো সময়ে যেতে পারেন। শীতকলে কুয়াশা ঘেরা সবুজ প্রকৃতি। শরতে অপরূপ কাশ বন। দূর থেকে দেখলেই মনে হবে শুভ্র কাশফুল হাতছানি দিয়ে এই বুঝি ডাকলো!

আমুলিয়া এমন একটি জায়গা যেখানে প্রাণ ভরে ফুসফুসে অক্সিজেন নেওয়া যায়। সারা বছরই আমুলিয়া তার নিজ রূপে সজ্জিত হতে থাকে। কিন্তু শরতে বেশি। শরতে সবুজ প্রকৃতি যেন চাদর গায়ে দিয়ে এক নতুন রূপ নেয়। আর বর্ষার সময় তো আরও রোমাঞ্চকর!

মৃদু ঠান্ডা বাতাস আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে খালি পায়ে হাঁটা!!! কি এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ!

যেভাবে গিয়েছিলাম: আমার প্রিয় বাইক আর সহধর্মিনীকে নিয়ে গিয়েছিলাম আমুলিয়ায়। রাজধানী ঢাকার যাত্রবাড়ির আশেপাশেই আমি থাকি। তাই যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সব মিলিয়ে ২০ মিনিটের দুরত্ব।

যেভাবে যাবেন: অনেক সহজ উপায় আপনি যেতে পারেন সেখানে। প্রথমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে আসতে হবে রাজধানীর গুলিস্তানে। গুলিস্তান থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এর বাস আছে। সেটায় উঠে সরাসরি ডেমরা চলে আসতে পারবেন। ভাড়া ৩০টাকা। সেখান থেকে নেমে রামপুরাগামী রিক্সাতে করে আসতে পারেন। ভাড়া ৩০টাকা নিবে। আর নয়তো বাসে করে ও যেতে পারেন। ভাড়া মাত্র ৫ টাকা নিবে।

খাবার: বলে রাখা ভালো এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি টঙের দোকান। সেই সাথে আমুলিয়ায় রয়েছে একটি মাত্র ফাস্টফুডের দোকান। চাইলে আপনি সেখানে খেতে পারেন। ইচ্ছে করলে খাবার সঙ্গে নিয়েও যেতে পারেন।

সতর্কতা: আপনি বিন্দু থেকে সিন্ধুতে ঘুরে বেড়ান তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটিই আমাদের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ। আর প্রকৃতি যদি কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয় তাহলে ‘আইলা’ ও ‘সিডর’র মতো বিভিন্ন টর্নেডো দিয়ে আমাদের ভোগাতে পারে। সুতরাং পলিথিন ও যেগুলো পচন হয় না এমন দ্রব্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। পরিবেশ সুন্দর রাখতে সহায়তা করুন। অন্যকেউ উপদেশ দিন।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন