আজ | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Search

দামি উপহারের নাইজেরীয় চক্র গ্রেফতার

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ৫:৩০ অপরাহ্ন, ২৮ আগস্ট, ২০২০

chahida-news-1598614220.png

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব করে বিভিন্ন দেশের মানুষকে উপহার দেওয়ার প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে আন্তর্জাতিক একটি চক্র। মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তা কিংবা সুন্দরী কোনো নারী সেজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব করেন তারা। পরে মিলিয়ন ডলারের গিফট দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করছে একটি চক্র।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির ১৫ জন নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি ল্যাপটপ, ২২টি মোবাইল ও পাঁচটি হিসাবের ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের কথা জানান সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ রেজাউল হায়দার। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পল্লবী থেকে এই ১৫ জন নাইজেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পল্লবী থানায় মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই চক্রটি মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তা বা ‘সুন্দরী’ নারী সেজে ভুয়া ফেসবুক আইডি বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরবর্তীতে মেসেজের মাধ্যমে তারা জানায়, সে ইয়েমেন/আফগানিস্থান বা সিরিয়াতে আছে এবং তার কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলার রয়েছে। কিন্তু ওই দেশে যুদ্ধ চলমান থাকায় যেকোনো সময় মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হতে পারে। তাই নতুন বন্ধুকে ওই সম্পদ উপহার দিতে চায়। যদি সে বেঁচে ফেরে তাহলে পরে তা ফেরত নেবে। এই ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে বন্ধুদের ঠিকানাসহ মোবাইল নম্বর নেয় এবং ওই ঠিকানায় বন্ধুদের মেসেঞ্জারে/হোয়াটসঅ্যাপে উপহারের প্যাকেটের ছবি পাঠায়। পরবর্তী মেসেজে কোনো একটি এয়ারলাইনসে প্যাকেটের বুকিং দেওয়া হয়েছে এমন রসিদ পাঠায়। ঠিক দুইদিন পর বন্ধুর (ভুক্তভোগীর) মোবাইলে ফোন করে ভিডিও কলে এয়ারপোর্ট কাস্টমস অফিসে থাকা উপহার প্যাকেট দেখায় এবং কাস্টমসের ভ্যাট বাবদ বিভিন্ন ধাপে টাকা নিতে থাকে।

সিআইডি জানায়, ফরহাদ হোসেন তালুকদার নামে এক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হয়েছে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরে আর টাকা না পাঠিয়ে তিনি সিআইডিকে জানান।

এই চক্রটি পুনরায় টাকা চেয়ে ফোন করলে পুলিশ, সিআইডির দিক নির্দেশনায় কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ আলামতসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, এ চক্রটি ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে এভাবে বোকা বানিয়ে উপহার দেওয়ার নামে স্ব-স্ব দেশের সহযোগী ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরা একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র, তাদের সহযোগীরা উল্লেখিত দেশে অবস্থান করছে।

সিআইডি জানায়, এর আগে গত ২ জুলাই তিনজনকে এবং ২১ জুলাই ১৩ জনকে একই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রতিটি ঘটনায় প্রতারণার টাকা গ্রহণে ব্যবহৃত এক বা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম মিলে যাচ্ছে। অর্থাৎ এরা বাংলাদেশ বিভিন্ন স্থানে থাকলেও মূলত একই সংঘবদ্ধ একটি চক্র বলে জানায় সিআইডি।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন