আজ | বৃহঃস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০
Search

জয়ের পর ঐক্যের ডাক জো বাইডেনের

চাহিদা নিউজ ডেস্ক | ১:০৪ অপরাহ্ন, ৮ নভেম্বর, ২০২০

chahida-news-1604819051.jpg

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেন প্রথম ভাষণে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা বিভক্তি চাই না। আমরা চাই ঐক্য, একতা। শনিবার পেনসিলভ্যানিয়া রাজ্যে তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউজের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যায়। এরপর রাতে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এ সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন- আমরা এমন ঐক্য চাই যেখানে কোনটি লাল রাজ্য (অর্থাৎ রিপাবলিকানরা যেখানে বিজয়ী হয়েছেন) আর কোনটি নীল রাজ্য সেদিকে তাকাবো না। আমরা শুধুই দেখবো যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি এদিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে টান টান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শনিবার তিনি ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। ৩রা নভেম্বরের ভোটের পর নানা জটিলতায় এবার নির্বাচনের ফল গণনায় বিলম্ব হতে থাকে। তাতে অধৈর্য্য হয়ে ওঠেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে যথেষ্ট ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছেন জো বাইডেন। বিশেষ করে নেভাদা, পেনসিলভ্যানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, অ্যারিজোনা আর জর্জিয়াতে এসে দু’জনের ভাগ্য দুলতে থাকে। সমীকরণটি এসে দাঁড়ায় ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’র মধ্যে। নানা হিসাব। নানা জল্পনা। তার মধ্যে শুক্রবার আকস্মিকভাবে ট্রাম্পকে টপকে পেনসিলভ্যানিয়াতে, জর্জিয়াতে এগিয়ে যান বাইডেন। আর নেভাদায় তো তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। তখন জো বাইডেন ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে ২৬৪। ম্যাজিক ফিগার ২৭০ স্পর্শ করতে বাকি মাত্র ৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। এক নেভাদায় জিতলেই সেখানকার ৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট যুক্ত হয়ে তার ষোলকলা পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু এমন সময় শনিবার ঘোষণা আসে তিনি পেনসিলভ্যানিয়ায় বিশাল এক জয় পেয়েছেন। সেখানে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট ২০টি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উল্লাস শুরু হয়ে যায়। জো বাইডেন রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়। অবশেষে রাতে তিনি নিজের রাজ্য দেলাওয়ারের উইলমিংটনে জনতার সামনে দাঁড়ালেন নতুন এক জো বাইডেন হিসেবে। তিনি তখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন। সেখানেই তাদেরকে শোনালেন ঐক্যের ডাক। বললেন, এখনই সময় আমেরিকার ক্ষত সারিয়ে তোলার। তিনি বললেন, আমি এমন একজন প্রেসিডেন্ট হতে চাই যিনি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের। আমি এই পদ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা ফেরাতে চাই। জাতির মেরুদন্ডকে পুনর্গঠন করতে চাই। মধ্যবিত্তকে পুনর্গঠন করতে চাই। আবার যেন যুক্তরাষ্ট্রকে সারা বিশ্ব সম্মান করে তেমন করে গড়ে তুলতে চাই। আর দেশের ভিতরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই।

যারা তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন তিনি তাদের উদ্দেশেও কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন সময় কর্কশ বাক্য বিনিময় থেকে সরে আসার, উত্তেজনার পারদ নামিয়ে আনার। এখন সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর। একে অন্যের কথায় কান দেয়ার। আর অগ্রগতির জন্য বিরোধী পক্ষকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে আমাদেরকে।

এই ভাষণেই প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেন ঘোষণা দেন, তিনি জানুয়ারিতে শপথ গ্রহণের দিন থেকে যাতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে করোনাভাইরাস বিষয়ক রেসপন্স কমিটি গঠন করবেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মহামারিতে কমপক্ষে দুই লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মার্কিনি মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় এক কোটি মানুষ। সারা বিশ্বের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ কমিয়ে আনার বিষয়টি তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন।

শনিবারের সমবেত নেতাকর্মীদের সামনে ভাষণ দেয়ার আগে জো বাইডেনকে পরিচয় করিয়ে দেন রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত কমালা হ্যারিস। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তিনি প্রথন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্টও তিনি। একই সঙ্গে প্রথম এশিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্টও কমালা হ্যারিস। এদিন তিনিও বক্তব্য রেখেছেন। কমালা হ্যারিস বলেন, এই নির্বাচনের ব্যালটে যখন আমাদের গণতন্ত্র ছিলণ, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা ছিল ঝুঁকিতে। সারা বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছিল। আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন দিনের সূচনা করেছেন। জনতার উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা আশা আর ঐক্যকে বেছে নিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন শালীনতা, বিজ্ঞান আর সত্যকে। আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন জো বাইডেনকে। কিন্তু সামনে চলার পথ খুব সহজ হবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই পথের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রস্তুত জো বাইডেন এবং আমিও। নিজে নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত সম্পর্কে কমালা হ্যারিস বলেন, আমি হতে পারি এই পদের জন্য প্রথম নারী, কিন্তু আমিই এ পদে শেষ নারী হবো না।

তাদের বক্তব্য দেয়ার আগে উইলমিংটনে র্নিাচনী প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানুষের ঢল নামে।

  

আপনার মন্তব্য লিখুন